মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২

শিরোনাম

প্রচ্ছদ /   সোনাইমুড়ীতে একই নামে দু’জন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবিদার

সোনাইমুড়ীতে একই নামে দু’জন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবিদার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, মে ৩১, ২০২২

প্রিন্ট করুন
মুক্তিযোদ্ধা

নাম ঠিকানা একই হওয়ায় একই গেজেটে সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ জন নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করছেন। এরা হলেন- সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বোরপিট গ্রামের মৃত ইউনুছ মিঞার ছেলে ও সাবেক এনসিসি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রফিক উল্যাহ এবং বোরপিট গ্রামের মৃত হাজী ইউনুছ মিয়ার ছেলে ও সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আলহাজ্ব মোঃ রফিক উল্যাহ। ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কে? খতিয়ে দেখছেন প্রশাসন। সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রফিক উল্যাহ আবেদন করলে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মাওলা জানান, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে গেজেট নং- ১৫৫৪, লাল মুক্তিবার্তা নং- ০২০৯০২১৫৮০ এ একই নামে ২ জন ভাতা পেয়ে আসছিল। গত সেপ্টেম্বর এমআইএস অনলাইন করায় ব্যাংক কর্মকর্তার ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। ২ জনের বিষয়ে তদন্ত করছে উপজেলা প্রশাসন।

সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১১ সালের ১৫ই নভেম্বর প্রকাশিত বেসরকারি গেজেটের ৫৩নং পৃষ্ঠায় লাল মুক্তিবার্তা নং ০২০৯০২১৫৮০ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রয়েছেন সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বোরপিট গ্রামের মোঃ ইউনুছ মিঞা এর ছেলে মো. রফিক উল্লাহ। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (এমআইএস) এ একই লাল মুক্তিবার্তা ও গেজেট নং ১৫৫৪  নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার নোয়াখালী ডাকঘরের নোয়াখালী গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে আলহাজ্ব মোঃ রফিক উল্যাহ এর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ২নং হাটগাঁও গ্রামের ইউনুছ হাজী বাড়ীর হাজী ইউনুছ মিয়ার ছেলে।

তিনি চাকরি জীবন থেকে মাইজদীতে বসবাস করেন।

অপরদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা বোরপিট গ্রামের রশিদ মিজি বাড়ীর মৃত ইউনুছ মিঞার ছেলে। মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। তবে তারা কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না।

সাবেক এনসিসি ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিক উল্লাহ মানবজমিনকে জানান, আমি মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছি। তদন্তের জন্য উভয়কে ডাকা হয়েছে। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার আলহাজ্ব মোঃ রফিক উল্যাহ আসেন নাই। অনলাইন নিবন্ধন শুরু হলে তিনি আগে এমআইএস করেছেন।

কিন্তু লাল মুক্তিবার্তায় তার নাম নেই। লাল মুক্তিবার্তায় আমার নাম রয়েছে। দেখি আমি এ ব্যাপারে কি করতে পারি। সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আলহাজ্ব মোঃ রফিক উল্যাহ এর সাথে মুঠোফোনে কল দিলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, বিষয়টি সেনসিটিভ। এ ব্যাপারে এখন আমি কিছু বলতে চাই না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন