, আপডেটঃ

নোয়াখালীতে ত্রিমুখী মামলা, প্রধান আসামী মির্জা কাদের -বাদল-খিজির হায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক নোয়াখালী টুয়েন্টিফোর
প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২১ ৯:৪৩ পিএম


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের বিবদমান দু’টি গ্রুপের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, হামলা, গুলি,ককটেল হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার নোয়াখালীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোঃ শোয়েব উদ্দিন খানের আদালতে  বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা-ও তাঁর প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, খিজির হায়াত খানকে  প্রধান আসামি করে ত্রিমুখী পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটির বাদি হলেন খিজির হায়াত খানের স্ত্রী ও শ্রমিক লীগের নেতা।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর  নোয়াখালীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট  মোঃ শেয়েব উদ্দিন খানের আদালতে লায়লা আনজুমান্দের পক্ষে আইনজীবি হারুনুর রশিদ হাওলাদার এবং এডভোকেট আবুল হোসেন রাজু  এবং কোম্পানীগঞ্জে শ্রমিক লীগের নেতা ইকবাল হোসেনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শংকর কুমার ভৌমিক ও এডভোকেট হাফিজুর রহমান মামলার শোনানীর করেন। দুটি মামলাই  আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য উপদানাবলি আইনের ৩/৬ ধারায় দায়ের করা হয়। আদালত দুপক্ষকে শোনার পর  এজলাস থেকে নেমে যান। ২০ মিনির পর আবার এজলাসে উঠে দুটি মামলা আমলে নিয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্হা গ্রহনের আদেশ দিয়ে  আদালত দ্রুত এজলাস ত্যাগ করেন।

মির্জা আবদুল কাদেরকে প্রধান আসামী করে দায়ের করা মামলায় তার ও ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন, মির্জা কাদেরের ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাপসিক সহ ৯৭ জনের নাম দিয়ে আরো ১৪০/১৫০ জনকে অজ্ঞাত  নামা আসামি করা হয়। মামলার আরজিতে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, প্রথম ঘটনা দেখানো হয়,৮ মার্চ সোমবার বিকেল ৫ টায় বসুরহাট রুপালি চত্বর, দ্বিতীয় ঘটনা দেখানো হয় একইদিন রাত সাড়ে আটটায় বসুর হাট জিরো পয়েন্টের বঙ্গবন্ধু চত্বর।

মির্জা কাদেরদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলার বাদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও লাঞ্ছিত বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের স্ত্রী আরজুমান পারভীন। তিনি তাঁর স্বামী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনকে মারধরের ঘটনায় মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে  আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় ঘটনার দিন বাদিনী স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান আওয়ামী লীগের নতুন অফিস উদ্বোধন ও মিলাদ অনুষ্ঠান করতে গেলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে ১-৫০ নং আসামীরা এবং ২,৩ নং আসামীর নেতৃত্বে ৫১- ৯৭ নং আসামী সহ অজ্ঞাতনানা আসামিরা নতুন আওয়ামিলীগ অফিসে প্রবেশ করিয়া খিজির হায়াত খানকে এলোপাতাড়ি কিল,ঘুষি মারিয়া শরীরে ফুলা জখম করে। কাদের মির্জা তার গলা টিপে ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা করে ও তার পরনের কাপর-চোপর ছিড়িয়া ফেলে। অন্য আসামিরা অফিসে রক্ষিত জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদেরের ছবি ফিরে ফেলে।ও আসবাব পত্রা  ভাংচুর করে।

দ্বিতীয় ঘটনার সময় সকল আসামী এক যোগে বঙ্গবন্ধু চত্বরে ভাংচুর চালায় আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। গত ৯ মার্চ থানায় মামলা করলে পুলিশ এ মামলা গ্রহন না করায় সোমবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আরজুমান পারভিনের আইনজীবী হারুনুর রশিদ হাওলাদার জানান, সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২ নং আদালতের ফেরত দেয়া মামলাটি মঙ্গলবার এ মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে দায়ের করা হয়।

অপরদিকে,গত ৮ মার্চ সোমবার বেলা ৩.৩০ টায় বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এবং বিকেল ৪ টায় বসুরহাট পৌরসভার রুপালী চত্বরে প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত কোভিট টিকা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করন আলোচনা সভায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সভাপতি খিজির হায়াত খান ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে এজাহারে উল্লেখিত ১৯৬ জন আসামি সহ আরো ৫০/৬০ জন সহস্র লোক হাতে পিস্তল,কাটা বন্দুক, শর্টগান,পাইপ গান দিয়ে গুলি করতে করতে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রুপালি চত্বরের আওয়ামী লীগ অফিসে প্রবেশ করে আবদুল কাদের মির্জাকে অফিস থেকে বের হতে বলে। তিনি বের হতে রাজী না হওয়ায় মামলার প্রধান বিবাদিনী খিজির হায়াত খান তাকে শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করে। আমি বাদি ইকবাল হোসেন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে।

অন্য আসামিরা অফিসে থাকা নেতা কর্মিদের পিটিয়ে আহত করে। হামলা কারীরা অফিসে থাকা চেয়ার,টেবিল,আলমারীসহ অফিসে টাঙানো বঙ্গবন্ধু,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসীনা,ওবায়দুল কাদের এর বাঁধানো ছবি ভাংচুর করে পদদলিত করে। এবং অশ্লীল শ্লোগান দিয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রুপালি চত্বরসহ বসুরহাট বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ৯ মার্চ কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে ও পুলিশ মামলা গ্রহন না করায় বাদি আদালতে এ মামলা দায়ের করে। মামলায় খিজির হায়াত খানকে ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে ১ ও ২ নং আসামী করা হয়। এ মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে  ওবায়দুল কাদের ও মির্জা কাদেরের দুই ভাগিনা মাহবুবুর রশিদ মন্জুও ফখরুল ইসলাম রাহাত সহ মোট ১৯৬ জনের নাম দিয়ে ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য  মিজানুর জানালেন বাদল ইতিমধ্যে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়ে নোয়াখালী কারাগারে রয়েছেন।

উপজেলা আ.লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর হামলা ও আলাউদ্দিন হত্যার ঘটনায় এজাহার দুটিতে কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু থানা পুলিশ সেই এজাহারগুলো মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় ওই দুই বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আরজুমান পারভীন জানান, ৯ থেকে ১৩ মার্চ শনিবার পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও পুলিশের তালবাহানায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি রেকর্ড করাতে পারিনি। অপরদিকে,নিহতের ছোট ভাই মো. এমদাদ হোসেন জানান, ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামিসহ ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান আসামি মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নাম বাদ না দেয়ায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ এজাহারটি রেকর্ড করেনি।  তাই রবিবার আদালতে মামলা করেছি।
বাদলের জামিন ও রিমাডের আবেদন নাকচ করে।

এ দিকে বুধবার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রাহমান বাদলকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আদালতে আনা হলে তার জামিনের আবেদন করা হয় এবং রাস্ট্র পক্ষ তার ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ২ নং জুডিশিয়াল আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট রাস্ট্র ও আসামী পক্ষের কৌঁসুলি দের শোনানীর শেষে জামিনের আবেদনে ও রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে দেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন রাজু জানান, কোম্পানি গন্জ থানা পুলিশের আবেদনে আদালত মিজানুর রহমান বাদলকে জিআরইউর -৫০৩/২১ ও জিআরইউর ৪৯৯/২১ মামলা দুটিতে ও শোন এ্যারেষ্টের আদেশ দেন।

এ নিয়ে তিনটি মামলা মিজানুর রহমান বাদল কারাগারে অন্তরিন হলেন। বাদলকে আরো দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর খবরও শোনা যাচ্ছে। আদালতের সামনে দাড়ানো তার বড় মেয়ে জাফরিন তাসমিন কথা ও বাদলের বড় বোন ফয়জুল নাহার টুনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এবং কোম্পানীগঞ্জের এ সব ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বোন টুনি বলেন যারা আমার ভাইকে তাল দিয়ে নামিয়েছে তার এখন কেহ  নাই। আর আমার ভাই জেলে।

মন্তব্য করুন:

মুল পাতার খবর

সোনাইমুড়ীতে হিউম্যান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

করোনা মোকাবেলা ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে-নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বাংলাদেশ…

লাইনে উঠল স্বপ্নের মেট্রোরেল

বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল রেললাইনে উঠেছে আজ মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে…

ঈদ ঘিরে সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা

ঢাকা : স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তোয়াক্কা…

মুনিয়া কান্ডে বোন নুসরাত এজেন্ট বাস্তবায়নে নেমেছিল

মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহানকে ঘিরে নানা রহস্যের জট খুলতে শুরু…

সিএনজিতে যাত্রী সেজে ছিনতাই,নারীসহ আটক ৩

নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাইজদী বাজার থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ৩ সদস্যকে…

চৌদ্দ হাজার টাকা ফেরত দিলেন পুলিশ কনস্টেবল

নোয়াখালীর মাইজদী শহরের পৌর কাঁচা বাজারের প্রধান সড়কে কুড়িয়ে পাওয়া…

কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগ সভাপতির পদ থেকে অবসরের ঘোষণা

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের…

যে পাঁচ তথ্যে খুলতে পারে মুনিয়ার মৃত্যু রহস্য

ঢাকা: ২৬ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান মুনিয়া। মুনিয়া…

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, ক্ষতিগ্রস্তরা পেলেন আরো ১৪৪০ প্লট

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার…

সম্পাদক : ইসমাইল হোসেন
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | Noakhali24.net
Privacy Policy | Terms and Conditions
Developed By: Link Bangla
Contact Us | About Noakhali24.net
অফিস: ৭৪ কাকরাইল ভূইঞা ম্যানশন, রমনা, ঢাকা ১০০০
ফোন: +৮৮ ০১৭৩০ ৭১৮১৭১
Email: noakhali24.net@gmail.com
বিজ্ঞাপন: noakhali24.net@gmail.com