, আপডেটঃ

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে
ওবায়দুল কাদেরের বরাবর খোলা চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক নোয়াখালী টুয়েন্টিফোর
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২১ ১১:১৩ পিএম

খান আল-আমিন


মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী, যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে আপনাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানিয়ে বলছি যে, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর আর ধৈর্য ধরতে না পেরে বাধ্য হয়েছি আপনার কাছে চিঠি লিখতে। আশাকরি আমার চিঠির ভাষার তাৎপর্য ভুল বুঝবেন না। ছোট ভাই হিসেবে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি আপনার নোয়াখালীর এক হতভাগা ভাই। দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নে কেন বিলম্ব, এই নিয়ে লিখতে লিখতে মতিভ্রম বসত একটু আধটু ভুলভাল বলে ফেলতে পারি।

ওগো মা মাটি মানুষের কাণ্ডারী, আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন বৃহত্তর নোয়াখালীর সুযোগ্য অভিভাবক মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী, নোয়াখালীর সূর্য সন্তান। বেশ বড় সড় দপ্তর তার সাথে আরো কতকগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ আপনার হাতে। আপনার বয়সও বাড়ছে, শরীর সায় দিচ্ছে না। তবুও আপনি নাছোড়। আপনাকে ধন্যবাদ।

দেশের উন্নয়নে কোথায় না দৌড়াচ্ছেন আপনি! সুখ নিদ্রা নষ্ট রোধ বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে সড়কে ছুটে যান দেশে এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে কাজে অগ্রগতি দেখতে। ছুটে যান বিভিন্ন সড়ক ও সেতু উদ্বোধনে। অনেক দৌড়াচ্ছেন। এবার একটু বিশ্রাম নিতে অনুরোধ করি। আর না দৌড়ে একটু বাসায় বসে দেশের পাশাপাশি বৃহত্তর নোয়াখালীর মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে নিজের শরীরের দিকে খেয়াল দিন। কারণ আপনি ভাল থাকলে আমরাও ভাল থাকবো।

ওগো জনতার কাণ্ডারী,নোয়াখালীর সূর্য সন্তান, সংগ্রামী জননেতা, মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী:নোয়াখালীর গণ্ডি পেরিয়ে আজ আপনি জাতীয় নেতাদের শীর্ষস্থানে। আজ আপনি মানবতার কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের স্বপ্ন আশা সব কিছু আপনাকে ঘিরেই। আপনি বাঙ্গালীর আশা-আকাংখা ও উন্নয়নের প্রতীক। আপনি বাংলাদেশের উন্নয়নের নেতা। তাই আমরা আপনার জেলাবাসী হয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং জাতির জনকের সুযোগ্য উত্তরসূরি বঙ্গকন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার রুপোকল্প ২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নোয়াখালী বিভাগ চাই। কারণ নোয়াখালী বিভাগ গঠনের মাধ্যমে ত্বরিত গতিতে বাস্তবায়ন হবে জননেত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, অপার সম্ভাবনাময় নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা গুলির সমন্বয়ে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা করণ এখন সময়ের দাবি। বিগত দেড় দশক যাবৎ ৩টি জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।

ভৌগোলিক অবস্থান, ৩টি জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, মেঘনার বুকচিরে প্রতি বছর বিশাল ভূখন্ডের সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নিরিখে নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার যৌক্তিকতা আরো বেগবান হয়েছে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার দেশে একাধিক বিভাগ ঘোষণা করেন এবং আরো একাধিক বিভাগ ঘোষণার সিদ্বান্ত নিয়েছে। সে নিরিখে নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবি বর্তমানে প্রায় এক কোটি অধিবাসীর।

উল্লেখ্য, সরকারী হিসেবে নোয়াখালীর বর্তমান আয়তন ৪২০২ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ২৫১ জন। এর মধ্যে হাতিয়া উপজেলার আয়তন ২১শ’ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে হাতিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন সাড়ে ৫০০০ বর্গকিলোমিটার। সে হিসেবে নোয়াখালী জেলার আয়তন হবে ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ হাতিয়া উপজেলার আয়তন দুইটি / তিনটি জেলার আয়তনের সমান। সব মিলিয়ে ৩টি জেলার আয়তন ৯ হাজার ৩৮৩ বর্গকিলোমিটার। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার আয়তন ১ হাজার ৪৫৫ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৮৮ জন এবং ফেনী জেলার আয়তন ৯২৮ বর্গকিলোমিটার জনসংখ্যা ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৮ জন উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে ৩টি জেলার জনসংখ্যা ৭৫ লাখের অধিক বলে বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে। অপরদিকে নোয়াখালীর হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণে প্রতি বছর বিশাল চর জাগছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে জেগে ওঠা বিশাল ভূমি আগামী দুই দশকে দেশের মানচিত্র পাল্টে দিতে যথেষ্ট।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাথে বৃহত্তর নোয়াখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজতর হচ্ছে। অপরদিকে সোনাপুর-সোনাগাজী-জোরালগঞ্জ সড়ক আগামী ২০১৮ সালে চালু হলে ২০টি জেলার অন্তত ৪ কোটি জনগোষ্ঠীর সড়ক যোগাযোগ আরো সহজতর ও নিরাপদ হবে।

নোয়াখালীর জেলা সদরের দক্ষিণে অপার সম্ভাবনাময় বিশাল এলাকা এখন আলোচনার বিষয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত অঞ্চলটিতে কৃষি, শিল্প, মৎস্য ও পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
এছাড়া নোয়াখালীর দক্ষিণে হাতিয়া উপজেলার চতুর্দিকে মেঘনার বুকচিরে প্রতি বছর যে পরিমাণ ভূমি জেগে উঠেছে তাতে দুটি জেলার আয়তনের সমান হবে। জেলা শহরের দক্ষিণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সূবর্ণচরে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থান নির্বাচনের কাজ চলছে। এছাড়া কৃষি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ২টিসহ আরো কয়েকটি সরকারী প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে মাঝারি ও বৃহৎ আকারের ৩০টি মৎস্য খামার রয়েছে। নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে সূবর্ণচরের দক্ষিণ চরমজিদ পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ হলে যোগাযোগ সুবিধা আরো সহজতর হবে। হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে সেনা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে চানন্দী ইউনিয়ন একটি উপজেলার আয়তনের সমান।

চানন্দী ইউনিয়নের পূর্ব ও দক্ষিণ পার্শ্বে প্রতি বছর গড়ে ৩০ বর্গকিলোমিটার ভূমি বড়তেছে। নোয়াখালীর দক্ষিণ অঞ্চলে গভীর সমুদ্র-বন্দর স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। নোয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বাস্থ্য সহকারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বৃহদাকারের একটি পাটকল, ৩টি বৃহৎ বিস্কুট ফ্যাক্টরী, ওষুধ ও সফট ড্রিংকস শিল্প প্রতিষ্ঠান, ২টি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ছাড়াও চৌমুহনী ও সোনাপুরে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান ব্যবসা-বাণিজ্য নগরী চৌমুহনী শহরের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন শত কোটি টাকার লেনদেন হয় ঐতিহ্যবাহী শহরটিতে। শিক্ষা, সাংস্কৃতি, শিল্প, ঐতিহ্য সব দিকে এগিয়ে আছে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী

বন্দর নগরী চট্রগ্রামের সাথে দেশের অবশিষ্ট অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের সেতুবন্ধন ফেনী জেলা। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা হচ্ছে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়ী অঞ্চল। সোনাগাজীতে রয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, মুহুরী প্রজেক্ট, বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়ক সংযোগস্থল। সোনাগাজীর দক্ষিণে বিশাল চর জেগে উঠায় জেলাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তেমনিভাবে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরীর ঘাট এবং রায়পুর উপজেলার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫টি জেলার যোগাযোগ বজায় রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা ধান, পাট, সুপারী, নারিকেল ও মৎস্য সম্পদের জন্য বিখ্যাত। বৃহত্তর নোয়াখালীর অনেক কৃতী সন্তান শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তেমনিভাবে এতদ্বঞ্চলের ২০ লক্ষাধিক অধিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতেও বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর গুরুত্ব অপরিসীম। এ যাবৎ বিভিন্ন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে এখানকার অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদগণ। জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীর অনেক গুণীজনের অবদান দেশবাসী কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।

নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। বর্তমান সরকার দেশে নতুন একাধিক বিভাগ ঘোষণার প্রেক্ষিতে এ দাবি আরো বেগবান হয়েছে। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবীতে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে নোয়াখালীর আরেক সূর্য সন্তান গরীব দুঃখি মেহনতি মাটিও মানুষের বন্ধু নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন পরিশোধ এর আহ্বায়ক এবং নোয়াখালী সূবর্ণচর -ও নোয়াখালী সদরের সুযোগ্য এমপি জননেতা একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেছেন অপার সম্ভাবনাময় বৃহত্তর নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়নে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ। নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা করা হলে অত্রাঞ্চলে অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে। এতে করে এতদ্বঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। তাই বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। ইনশাল্লাহ বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালী কে বিভাগ ঘোষণা করবেন।

ওহে উন্নয়নের দিশারী, নোয়াখালীর সুযোগ্য সন্তান মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী, নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে কেল্লাফতে। নোয়াখালী ও বাংলাদেশের দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর তেমনি ঐশ্বর্যের সন্ধান। টেনে তুললে ফুলে ফেঁপে উঠবে দেশটা।বাংলাদেশ সরকার যদি সমুদ্রের সম্পদ আহরণ করে তাহলে পাল্টাবে গোটা দেশের অর্থনীতি। উন্নয়নে জোয়ার অনিবার্য। কারন বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পলিমাটি জমছে বছরে ২০০ কোটি টন। টেনে আনছে নদী। নদী-সাগরের দেয়া নেয়া কম নয়। বিপদ বাড়ে, সাগর যদি তেজ দেখিয়ে নদীতে ঢোকে। তখন নোনা জলে ফসল নষ্ট। দুর্যোগে ও সমুদ্র প্রকোপে জেরবার জনপদ। ক্ষতি যতটুকু তার চেয়ে লাভ অনেক বেশি। খনিজ, জ্বালানি সম্পদ জমে বঙ্গোপসাগরের বুকের ভেতর। সেটা নাগালে আনাটাই কাজ। এরই নাম ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল সমুদ্রের অর্থনীতি। তাই বঙ্গোপসাগরের সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে কেল্লাফতে। কী নেই সেখানে। রয়েছে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম। ১৩টি জায়গায় সোনার চেয়ে দামি বালি। যাতে মিশে ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমানাইট, জিরকন, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট। অগভীরে জমে ‘ক্লে’। যার পরিমাণ হিমালয়কেও হার মানায়। যা দিয়ে তৈরি হয় সিমেন্ট। এই ক্লে হাতে পেলে চিন্তা কী। সিমেন্ট কারখানাগুলো রমরমিয়ে চলবে। কাঁচামালের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হবে না। তেল-গ্যাসের সন্ধানও মিলেছে। চেষ্টা করলে তাও আয়ত্তে। দরকার শুধু তল্লাশি চালিয়ে তুলে আনার। এ একেবারে স্থায়ী আমানত। খোয়া যাওয়ার ভয় নেই। ব্যাঙ্কে টাকা তোলার মতো বিষয়টা সহজ না হলেও তেমন কঠিনও নয়।

প্রযুক্তিগত উদ্যোগটা নিখুঁত হওয়া দরকার। কাজটা করতে বিদেশি কোম্পানিকে যদি ব্লক ইজারা দেওয়া হয়।তাহলে বদলে যাবে বাংলাদেশ।আর এই ক্ষেত্রে নোয়াখালী কে বিভাগ করা অতিব জরুরী। সুতারাংঃ মাননীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী, দিন বদলের শপথ নিন নোয়াখালী বিভাগ করুন।

উন্নয়নের নেতা মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী, যদি নোয়াখালী বিভাগ গঠন করা হয় তাহলে অত্রাঞ্চলে আরো দুইটি বন্দর হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলেয়ে বন্দর হবে ৪/টি বন্দর গুলি হলো ১/ সম্ভব্য বিমানবন্দর নোয়াখালী, ২/ নদী বন্দর লক্ষ্মীপুর ৩/ সম্ভব্য গভীর সমুদ্রবন্দর নোয়াখালী, ৪/ স্থলবন্দর ফেনী আর নোয়াখালী বিভাগ গঠনের ফলে উক্ত বন্দর গুলির কারণে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। প্রতিবেশ দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো ঢৃহ হবে। এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে নোয়াখালীর সড়ক ও রেলপথ স্থাপনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আর এমনটির ফলে বাংলাদের অতি সহজে তড়িৎ গতিতে ভারতের পাশাপাশি ভুটান ও নেপালের সাথে সড়ক পথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বেগবান করতে সক্ষম হবে। অত্রাঞ্চলে শিল্প বিপলাব ঘটবে। বাড়বে কর্মসংস্থান।বাংলাদেশে থাকবেনা আর বেকারত্বে অভিশাপ। পূরণ হবে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের। তখন সিঙ্গাপুর, দিল্লী কি? নিউইয়র্ক, লন্ডন হবে নোয়াখালী সিটি। বদলে যাবে বাংলাদেশ ও দেশের অর্থনীতি বাড়বে প্রবৃদ্ধি। সরকার পাবে বিপুল পরিমানের রাজস্ব।

হে উন্নয়নের দিশারি মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী, রাজধানী ঢাকা হতে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা অবস্থিত অর্থাৎ কিনা ঢাকা হতে মাত্র ত্রিশ মিনিটে কুমিল্লা দাউদকান্দি পোঁছানো যায় আর ঢাকা হতে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে কুমিল্লা জেলা সদরের অবস্থান এবং রাজধানী ঢাকা হতে সড়ক পথে ফোর লেন সড়কে মাত্র এক ঘণ্টায় কুমিল্লা জেলা সদরে পোঁছানো যায় বিধায় রাজধানী ঢাকার এত কাছের জেলা কুমিল্লাকে বিভাগ করার কোনও যৌক্তিকতা নাই বলে প্রশাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। তাছাড়া কুমিল্লার জেলা সদর হতে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পূর্ব দিকে বিবিরবাজার ও কটক বাজার এর পরে ভারত সীমান্ত তথা ত্রিপুরার সোনামুড়া বাজার অবস্থিত তাই ভৌগোলিক ভাবে কৌশলগত কারেণও কুমিল্লাকে বিভাগ করা যায় না বলে বিজ্ঞজনের অভিমত।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা, কোম্পানীগঞ্জ মুজিব বাহিনীর কমান্ডার জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি মহোদয়, যদি হাইওয়ে রোড এবং সিটিকর্পোরেশন দিয়ে যদি বিভাগের দাবী করা যেতো তাহলে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর আরো আগেই বিভাগ হতো। যদি উন্নয়ন, সেনা ক্যান্টনমেন্ট শিক্ষাবোর্ড দিয়ে যদি বিভাগ পাওয়া যেতো তাহলে স্বাধীনতার আগেই যশোর বিভাগ হতো, খুলনা হতোনা। যদি বিভাগীয় সকল হেড কোয়াটার দেখিয়ে বিভাগ পাওয়া যেতো তাহলে দিনাজপুর বিভাগ হতো রংপুর না। আসলে মাননীয় মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের স্যার, তারা এটাই জানেননা কেন নতুন করে বিভাগ গঠন হয়? না জেনে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব নষ্ট করে এবং প্রতিবছর রাজস্ব ঘটতির যাহাতে পোহাতে হয়। তার জন্য আঞ্চলিক ও ব্যক্তি স্বার্থে কুমিল্লা বিভাগ চাচ্ছে। এটার কোন মানে হয়না। ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার তাই রাজধানী ঢাকার এতো কাছাকাছি কুমিল্লায় বিভাগীয় হেড কোয়াটার মানে দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করা। এর ফলে টানতে হবে প্রতি বছর রাজস্ব ঘাটতি। জনগনের উপর আসেবে বাড়তি করের বোঝা । তৃণমূল জনগণ হারাবে ত্বরিত গতিতে তাঁহাদের বিভাগীয় সকল সুযোগ সুবিধা। বঞ্চিত হবে বৃহত্তর নোয়াখালী। পূরণ হবেনা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার রুপকল্প ২১ ও সম উন্নয়নের দ্বারা। যানজট যুক্ত ঢাকামুখী গনমানুষের চাপ রয়েই যাবে। পূরণ হবেনা যানজট মুক্ত নিরিবিলি স্বপ্নের রাজধানীর।হয়তো কিছু দিন পর বসবাসের অনুপযোগী ঘোষানা করবে বাংলাদেশের প্রাণ কেন্দ্র রাজধানী ঢাকা কে স্থবিরতা দেখা দিবে জন জীবনে।হাজার পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ

তাই প্লিজ আমার প্রিয় বীরমুক্তিযোদ্ধা উন্নয়নের দিশারী জনতার কাণ্ডারি মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী জননেতা ওবায়দুল কাদের স্যার, আপনি আপনার সহকর্মী মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী লোটাস কামাল কে বলেন। ব্যক্তি স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে দেশের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল জনগণের সুবিধার্থে ঢাকা থেকে ১৯৬ কিলোমিটার ও চট্রগ্রাম থেকে ১২২ কিলোমিটার দূরে বি-বাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর , ফেনী লক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তী স্থান নোয়াখালীকে বিভাগ করলে তৃনমূল জনগণ পাবে তড়িৎ গতিতে নাগরিক সকল সুযোগ সুবিধা বাদলে যাবে বাংলাদেশ ও দেশের অর্থনীতি রাজস্ব ঘাটতি নয় বরং রাজস্ব আদায়ে একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। বাড়বে প্রবৃদ্ধি। নিশ্চিত হবে বঙ্গকন্যার সমউন্নয়নের দ্বারা অতি সহজেই বাস্তবায়ন হবে স্বপ্নের রুপকল্প ২১ জনগনের উপর আসবেনা বাড়তি করের বোজা। রচিত হবে উন্নয়নের দ্বার। পূরণ হবে বঙ্গবন্ধু জাতির জনকের স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের। আর আমরা পাবো স্বপ্নের সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। যে খানে থাকবেনা বেকারত্বের অভিশাপ। থাকবেনা কেউ অভুক্ত সবাই থাকবে সুখে শান্তিতে। আর তখন আমরা নয় বরং বিদেশিরা কাজের জন্য আসবে বাংলাদেশে।

ওহে বীরমুক্তিযোদ্ধা নোয়াখালীর অহংকার মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী উন্নয়নের চাবিকাঠি জনতার শেষ আশ্রয়স্থল জনতার জাগ্রত প্রান জননেতা ওবায়দুল কাদের স্যার, নোয়াখালী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়ক চার লেনে উন্নত করার অনুমোদন একেনেক সভায় পাশ করায় আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ব্যক্তিগত ভাবে আপনাকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ হাজার ভালোবাসা ও সালাম। আমাদের চিন্তা বা ভাবনা ছিল চার লেন সড়কের জন্য আমরা আন্দোলনে নামবো কিন্তু আপনি যে উন্নয়নের দিশারী আমরা চাওয়ার আগেই আপনি আমাদের এই প্রাণের আরেক দাবী পূরণ করেছেন সত্যি এই জন্য বৃহত্তর নোয়াখালী আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। হে উন্নয়নের মহান নেতা, আপসোস স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেছে, লক্ষ্মীপুর সমতট অঞ্চল হওয়ায় আদৌ আমার লক্ষ্মীপুরে রেল লাইন পৌছায়নি। আমরা জানি এটা আপনার মন্ত্রণালয় এর কাজ নয়। যদি হতো তাহলে আমি শিউর এতো অপেক্ষার প্রহর গুনতে হতো না আমার লক্ষ্মীপুরবাসীকে।

সরি আমার বলে ফেললাম যদিও আমার জন্মেরও অনেক আগে নোয়াখালী থেকে ফেনী, লক্ষ্মীপুর আলাদা হয়েছে কিন্তু আমি মনে করি নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এক জেলা শুধু দাপ্তরিক কাজ গুলি হয় আলাদাভাবে। সেই হিসাবে আমি মনে করি ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও আমার জেলা। যাইহোক সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো গত এক বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু জাতির জনকের সুযোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুরের এক জনসভায় বলেছেন লক্ষ্মীপুরে অতি তাড়াতাড়ি রেল লাইন পৌছানো হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেখেন রেল মন্ত্রণালয়ে সংক্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই উন্নয়নের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণ বস্তবায়নে কেমন জানি উদাসীন। আমরা আশাবাদী লক্ষ্মীপুরের কেন রেল লাইন স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে এই বিষয়টি আপনি না পারলে আমাদের জননেত্রীর মাধ্যমে খতিয়ে দেখবেন। যাকপর কথা সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী। বরাবরই বলেছি, আঞ্চলিক কিংবা ব্যক্তি স্বার্থে আমরা নোয়াখালী বিভাগ চাইনি বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও তৃনমূল জনগনের বিভাগীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করনের লক্ষে এবং ডিজিটাল বাংলাদের বিনির্মাণের জন্য কেবল আমরা নোয়াখালী বিভাগ চাই। কেননা নোয়াখালী বিভাগ হবে উন্নত মানের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের সহায়ক। আমরা জানি আপনার বীরত্ব গাথা ইতিহাস তার প্রমাণ স্বাধীনতা সংগ্রামে আপনার অগ্রণী ভূমিকা দেশ স্বাধীন করার জন্য আপনি আপনার জানবাজি রেখেছেন। তাই আমরা আশাবাদী কোনটা আপনার এখতিয়ার কোনটা না দেশের উন্নয়নের লক্ষে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আপনি নোয়াখালী বিভাগ গঠনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ওহে জনতার কাণ্ডারী, উন্নয়নের দিশারী, বীরমুক্তিযোদ্ধা , মাননীয় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী, বৃহত্তর নোয়াখালীর গর্ব অহংকার, মজলুম জননেতা ওবায়দুল কাদের স্যার, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা সফল রাষ্ট্র নায়ক মানবতার নিবেদিত প্রাণ, যার দুই নয়নে শুধু দেশের উন্নয়ন, জননেত্রী দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন, রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে অবিলম্বে নোয়াখালী বিভাগ গঠনের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে আপনার নিকট উদাত্ত আহবান জানাই।

বিনীত নিবেদক
বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে
খান আল-আমিন। সোনাইমুড়ী,নোয়াখালী।

মন্তব্য করুন:

মুল পাতার খবর

এমপি ইব্রাহীমের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ

বিদ্যালয় ভবন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নতুন ভবনে হবে পাঠদান।…

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খান

ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আগা খান মিন্টু বিনা…

চিত্রনায়িকা পরীমনি কি ফেঁসে যাচ্ছেন? (ভিডিও)

চিত্রনায়িকা পরীমনিকাণ্ডে ঢাকা বোট ক্লাবের ভেতরের আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে…

ঈদে আসছে ‘লিডার, আমিই বাংলাদেশ’

৬০ ভাগ শুটিং শেষ হয়েছে বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড এর চলচ্চিত্র…

এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ২৭ জুন

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে…

টিকা কিনতে বাংলাদেশকে ৭৯৯০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

করোনাভাইরাসের টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশকে সাত হাজার ৯৯০ কোটি টাকা…

কঠোরভাবে লকডাউন পালন না করলে বিপর্যয়ের শঙ্কা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রুবেদ আমিন বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাসের…

রামগঞ্জে নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কলেজ ছাত্রী

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা লামচর ইউনিয়নের কালিকাপুর হেতিমপুরে চাচা মমিন উল্যার…

খুলনায় ক’রোনাভাইরাসে রেকর্ড মৃত্যু

খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন মারা গেছে।…

সম্পাদক : ইসমাইল হোসেন
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | Noakhali24.net
Privacy Policy | Terms and Conditions
Developed By: Link Bangla
Contact Us | About Noakhali24.net
অফিস: ৭৪ কাকরাইল ভূইঞা ম্যানশন, রমনা, ঢাকা ১০০০
ফোন: +৮৮ ০১৭৩০ ৭১৮১৭১
Email: noakhali24.net@gmail.com
বিজ্ঞাপন: noakhali24.net@gmail.com